নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নতুন ভবন এক বছর আগে উদ্বোধন করা হলেও শুরু হয়নি কোনো চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে ১০০ শয্যার পুরনে ভবনেই চালানো হচ্ছে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম। ১০০ শয্যার জনবল পূরণ না হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সাবেক স্বাস্থ্ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন নবনির্মিত ৬তলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল । গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী নতুন ভবনের কাজ ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার দরপত্রে ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ঝিনাইদহ জেলার এমকেকেডি.এম এম আর.এমএমআইটি ঠিকাদারের তত্বাবধানে নির্মাণ কাজ শুরু হয় । গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি হস্তান্তরে রাজি হচ্ছেন না । চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুর বলেন, ভবনের কাজ পুরাপুরি শেষ হয়নি। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসাতাল চালু না হওয়ায় এই হাসপাতালটি ২০০৩ সালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নিত করা হয়। কিন্তু ১৫ বছরেও ১০০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও লোকবল চাহিদা মত পূরণ হয়নি। সুতরাং সেই মান্ধাতার আমলের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল দিয়েই চলছে এই হাসপাতালটি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এখানে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকট ছিল তা এখনও বিদ্যমান । চুয়াডাঙ্গা ছাড়াও মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদাহ জেলার চুয়াডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন রোগীরা চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসে । চাহিদামত চিকিৎসক না থাকার কারণে রোগীরা সঠিক সেবা পায় না ।তাছাড়া শয্যা সংকটে অতিরিক্ত রোগীর চাপে রোগীদেরকে মেঝে, বারান্দায় ও করিডোরে অবস্থান করে চিকৎিসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসক না থাকায় সেবা পাচ্ছেন না তারা । বাগানপাড়ার ছানোয়ার হোসেন (৫৩) জানান, মেডিসিন ওয়ার্ডে গত ৪দিন আগে ভর্তি হয়েছি এখনও বেড পাইনি । রোগীর চাপে এই ওয়ার্ডে বেড পাওয়া খুবই কষ্টকর । শিশু ওয়ার্ডে চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মিলন মিয়া জানান, আমার মেয়ে মিমিয়ার (৬ মাস) নিউমোনিয়া জনিত কারণে হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার থেকে এই ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। বেড পর্যাপ্ত না থাকায় বাইরে অবস্থান করছি। সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে মেহেরপুরের দরবেশ পুরের ইয়াছদ্দিন (৬০) জানান, বেড স্বল্পতার কারণে এই হাসপাতালের বারান্দায়
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ডাক্তার থাকার কথা ২১ জনের স্থানে আছে মাত্র ১৫জন । চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংকটের কারনে এখন ইন্টার্নি চিকিৎসক আর উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার দিয়েই স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. মারুফ হাসান নতুন ভবনের দায়িত্বভার বুঝে নেয়া প্রসঙ্গে জানান, এই ভবনের প্রশাসনিক কোনো অনুমোদন নেই তাহলে কিভাবে এই ভবন বুঝে নেব ? ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসাতাল চালু প্রসঙ্গে জানান, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবলই এখনও আসেনি ৫০ শয্যার।জনবল দিয়েই এই বিশাল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে এই জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করবো কীভাবে
Leave a Reply