নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গা শহরের পশুহাটপাড়ার আলোচিত নারী রুপার গরুর ফার্মের নিয়মিত পশুচিকিৎসককে মারধর করে আটকে রাখার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ওই পশু চিকিৎসক চুয়াডাঙ্গা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাসুদ রানা রুপার গরুর ফার্মের খোঁজখবর নিতে গেলে তাঁকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে আহত ওই পশুচিকিৎসককে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ওই পশুচিকিৎসক মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রুপার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না (৩৮) ও মিলন হোসেন (৩২)। এজাহার সূত্রে জানা যায়, পশুহাট পাড়ার আলোচিত মহিলা রুপা তাঁর ফার্মের গরুর চিকিৎসা করানোর জন্য পশুচিকিৎসক মাসুদ রানাকে ডাকেন। গতকাল বিকেল চারটার দিকে ওই পশুচিকিৎসক মাসুদ রানা রুপার ফার্মে পৌঁছে গরুগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর রুপা বলে, ‘তোর চিকিৎসা দেওয়ার কারণে তিন-চারটি গরু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দিয়ে এখান থেকে যাবি।’ এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিরাসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মাসুদ রানাকে মারধর করে আটকে রাখে। পশু চিকিৎসককে মারধর করে আটকে রাখার ঘটনা জানাজানি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশও খবর পায়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ রাত আটটার দিকে রুপার গরুর ফার্ম থেকে আহত ওই পশুচিকিৎসককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রুপার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না ও একই এলাকার মৃত মসলেম উদ্দীনের ছেলে মিলন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আহত ওই পশুচিকিৎসক বাদী হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় শহরের আলোচিত রুপা অভিযোগ করে বলেন, ২২ আগস্ট পশুচিকিৎসক মাসুদ রানা ফার্মের গরুগুলোকে খুরা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য তাঁকে পরামর্শ দেন। রুপা রাজি হলে তিনি ২৪-২৫ আগস্ট দুই দিন ধরে ফার্মের মোট ১০০টি গরুর ভ্যকসিন দেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর থেকে গরুগুলো অসুস্থ হতে থাকে। এর মাঝেই ৩-৪টি গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার স্থানে পচন ধরেছে। পরে ওই পশুচিকিৎসককে বিষয়টি বারবার বলা হলেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। গতকাল অনেক অনুরোধ করার পর পশুচিকিৎসক ফার্মে গেলে উত্তেজিত ফার্মের একজন কর্মচারী তাঁকে আঘাত করে।