তবে সে চিত্র পাল্টে দিয়েছেন দামুডহুদা মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুযোগ্য পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস। স্থানীয়রা বলছে, গত প্রায় ১বছর ধরে দামুডহুদা উজেলার কোথাও আর জুয়ার আসর চোখে পড়ে না। সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে গেছে সর্বশান্ত হওয়ার এই মরণ নেশার খেলা । অনেক জুয়াড়ী, জুয়ায় আসক্ত তরুন-যুবক ফিরে এসেছে স্বাভাবিক জীবনে। অনেকে বলেন, বর্তমান ওসি সুকুমার বিশ্বাসের কঠোর অবস্থানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের জুয়ার আসর । ঢাক-ঢাল পিটিয়ে নয় অনেকটা নীরবে-নিভৃতেই এই পুলিশ কর্মকর্তা জুয়া বন্ধে সংগ্রাম করেছেন। জানা গেছে, জুয়া খেলা বন্ধে ব্রিটিশ আমল থেকেই জুয়া আইন রয়েছে, যেখানে তাৎক্ষনিক জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে ।
তবে এই আইনের কঠোর প্রয়োগে বা জুয়া বন্ধে বিভিন্ন সময়ে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ প্রশাসনের মধ্যে । বিপরীতে সংঘবদ্ধ জুয়াড়ীরা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে টাকা দিয়ে নিবিঘ্নে এই ভয়ংকর নেশার খেলা জুয়া চালিয়ে আসছিল। তবে স্বদিচ্ছা, সততা আর দায়িত্ববোধের জায়গাতে অবিচল থেকে দামুডহুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুযোগ্য পুলিশ অফিসার ইনচার্জ ওসি সুকুমার বিশ্বাস দামুডহুদা উপজেলা থেকে স্থায়ীভাবে জুয়া উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দামুডহুদা উপজেলা সাধারণ মানুষ।
ওসি সুকুমার বিশ্বাস দামুডহুদা মডেল থানায় যোগদানের পর থেকে গত প্রায় ১বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এই জুয়া খেলা।অনুসন্ধ্যানে দেখা গেছে, মাদক বা ড্রাগ আসক্তির মতই জুয়া খেলাও এক ধরনের আসক্তি । জুয়া খেলতে খেলতে অনেক মানুষই নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং এই আচরণের জন্যই তাদের গোটা জীবনটা সমস্যায় ভরে যায়। জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে তারা শুধু জুয়া খেলার সুযোগ খোঁজে এবং জুয়ার মধ্যেই নিজেদের জীবনকে ডুবিয়ে রাখে। অনেকে টাকাপয়সা খুইয়ে এবং নানা বিপত্তি সত্ত্বেও জুয়া খেলা ছাড়তে পারে না। বহুবার জুয়ার নেশা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেও অনেকে শেষ পর্যন্ত জুয়া খেলা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না। আর এতে ব্যাক্তি, পারিবারিক, সামাজিক সহ বৃহত্তর পরিসরে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। ঘটে আইন শৃঙ্খলার অবনতিও । নগদ টাকা-পয়সা খুঁইয়ে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গহনা বন্ধক,গরু-ছাগল বিক্রি, জমাজমি বিক্রি করতেও দেখা গেছে, ঘটেছে পারিবারিক বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও । অনেক সময় জুয়ার কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতায় সহ নানা অপরাধ কার্যক্রম দেখা দেয় । যে এলাকায় জুয়া খেলা হয় সেখানকার গ্রামীন অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । মানুষের হাতে নগদ টাকা থাকে না তখন দেখা দেয় নানা বিপর্যয় ।।দামুড়হুদায় যাত্রাপালা, সার্কাস, লটারী বা অন্যান্য উৎসব উপলক্ষেই নয় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর জুড়েই জুয়া খেলা হয়ে আসছিল ।
ওসি সুকুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে দামুডহুদা থানা পুলিশের নানা তৎপরতায় ।বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব জুয়া খেলার সাথে স্থানীয় কিছু সমাজপতি, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, বড় বড় রাঘোব-বোয়াল, হোমরা-চোমড়া, সন্ত্রাসী, গ্যাংগ্রুপদের অংশ গ্রহণও দেখা যায় ।অনেক সময় তারা প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে আবার সংশ্লিষ্ঠ কারো কারো হাতে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে এই ভয়ানক আসক্তির খেলা-আসর চালিয়ে গেছে তবে বর্তমানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে দামুডহুদার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ।যে জুয়া খেলা যুগের পর যুগ স্থায়ী ভাবে চলে আসছিল তা বন্ধে কিভাবে সফল হলেন দামুডহুদা থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস ? এমন প্রশ্নের উত্তরে দামুডহুদা থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, ‘স্বদিচ্ছা সবার আগে রাখতে হবে তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব । তিনি বলেন স্বদিচ্ছা, দায়িত্ববোধ আর সততার উপর দাঁড়াতে চেষ্টা করেছেন’ তিনি। জুয়া বন্ধ করা অনেকটা কঠিন ব্যাপার ছিল উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘জুয়াড়ীরা অনেক সময় মোবাইলে আননোন নাম্বারে অর্থের অফার,তদবির আর নানা চ্যালেঞ্জও ছুড়েছে এদের মোকাবেলা করতে, ধড়পাকড় করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কে কখনো কখনো কঠোর অবস্থানে যেতে হয়েছে’ ।
ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, জুয়ার কারণে অনেক সময় চুরি-ছিনতায় সহ নানা অপরাধ কর্যক্রম দেখা দেয়, তিনি আরও বলেন আমি শুনেছি জুয়ার কারণে সেই সন্তান বাবাকেও মারে, মাকেও মারে৷ তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান৷ যদি কোন সন্তান তার বাবা-মাকে অত্যাচার করে সে তথ্যটুকু আমাদের দিবেন৷ তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর এ্যাকশনে যাবো৷ কারা মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে সেটা আপনারা জানেন৷ সে হয়তো কোন চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা কোন মুরুব্বির ছেলে হতে পারে৷ আপনারা সাহস পাচ্ছেন না, ভয় পাচ্ছেন৷ আপনারা সে ভয়টি পাবেন না৷আমাদের তথ্য দিন। কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই, অন্যায় কাজ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেও না৷ দামুডহুদা উপজেলায় জুয়া, মাদক সহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে সর্বদা সহায়তা করেছেন তিনি।প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ০৬ জুন দামুডহুদা মডেল থানায় ওসি হিসাবে যোগ দেন সুকুমার বিশ্বাস। আর যোগদানের পর থেকেই আইন- দামুডহুদা উপজেলার শৃঙ্খলা উন্নতির নানা চেষ্টার পাশাপাশি তিনি জুয়ার আসর বন্ধে পদক্ষেপ নেন এবং এটি বন্ধে সফল হন।