আশানুর রহমান গাজীপুর প্রতিবেদকঃ পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলামকে গলাকেটে হত্যা করেন স্ত্রী বিউটি বেগম। বৃহস্পতিবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান তিনি। জবানবন্দিতে বিউটি বেগম জানান, তিনি টঙ্গী কোকাকোলা ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। তার স্বামী সাইফুল ইসলাম টঙ্গীর সড়কে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। তিনি আড়াই বছর ধরে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন। যেকোনো পুরুষকে জড়িয়ে বাজে কথা বলতেন। ঘটনার দিন সকালে বিউটি বেগম স্বামীকে খাইয়ে ও মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে ফ্যাক্টরিতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ বোধ করায় ছুটি নিয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর হাত-মুখ ধুয়ে ঘরের মেঝেতে ওড়না বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর সাইফুল ঘরের দরজা বন্ধ করে বিউটির কাছে এসে শরীরে হাত দেন ও শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। ওই সময় তিনি বিউটিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘চুল ভেজা ক্যান? কয়জনের লগে আকাম করে আসছিস?’ এই বলে স্ত্রীর গলায় খামচি দিয়ে গলা টিপে ধরেন সাইফুল। বিউটি তার হাত থেকে ছুটতে না পেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
বিউটি আরো জানান, জ্ঞান ফিরে দেখেন তার স্বামী পাশেই ঘুমিয়ে আছে। তখন তিনি ক্ষোভে তরকারি কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর গলা কাটেন। এরপর রক্ত দেখে আবার অজ্ঞান হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তার ছোট মেয়ে সানজিদা স্কুল থেকে ফিরে গোঙানির শব্দ পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। আশপাশের লোকজনও বিষয়টি টের পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। অনেকক্ষণ পর বিউটি বেগমের জ্ঞান ফিরলে তিনি দরজা খুলে দেন। তখন সবাই সাইফুলের মরদেহ ও পাশে একটি রক্তমাখা ছুরি, বিউটি বেগমের চুলে ও কাপড়ে রক্ত, তার গলা ও গালে নখের আঁচড়ের দাগ দেখতে পায়। এরপর বিউটি বেগম রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে গোসল করে বড় মেয়ে শারমিনের বাসায় চলে যান।