নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মালয়েশিয়া প্রবাসী নাইমুর রহমানের পিতা মাতা দুইজনই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় দেশে ফিরে আসে নাইমুর। দেশে আসার পরপরই তিনিও একই রোগে আক্রান্ত হন। প্রবাসে উর্পাজনের অর্জিত অর্থ পিতা ও মাতার চিকিৎসা করিয়ে শেষ করে নিজের বেলায় পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। অর্থ অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন। এমন সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক জাকির বিশ্বাস। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নাইমুরের চিকিৎসার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পোস্ট করেন। সাড়া পান বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের কাছ থেকে।
বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৭১জন। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জাকির বিশ্বাসের গড়ে তোলা সংগঠনে সেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করছেন। নিজেদের পকেটের অর্থ নিঃস্বার্থভাবে তুলে দিচ্ছেন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায়। হাত পাতছেন শুভাঙ্কাখীদের কাছে। স্কুল শিক্ষক জাকির বিশ্বাস সময়ের সমীকরনকে বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে জাকিয়া (৮) দীর্ঘ ২০১৬ সালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ছিলো। মুত্যুর মুখ থেকে সৃষ্টিকর্তা আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা প্রথম দিকে আশা ছেড়ে দিলেও বর্তমানে জাকিয়া এখন অনেকেটাই সুস্থ। মুলত মেয়েকে নিয়ে নিজের কষ্টগাধা কথাগুলো ফেসবুকে শেয়ার করার পর থেকেই মনে হলো এলাকার দুস্থ অসুস্থ মানুষের জন্য কিছু করার। সেই থেকেই শুরু। প্রথম দিকে একা শুরু করলেও পরে গ্রাম্যের বাল্য বন্ধু গোলাম রসুল, শিক্ষক জিয়াউর রহমান সহ অনেকেই গিয়ে আসে। ৩জন থেকে ১২জন আর ১২ জন থেকে বর্তমানে আমাদের এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৭১জন। আমরা মুলত, এলাকার গবীর অসহায় দুস্থ মানুষদের অসহায়ত্বের চিত্র ফেসবুকে আমাদের নিজ নিজ আইডি থেকে পোস্ট করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। সেখান থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ যার জন্য পোস্ট করা হয় তার হাতে তুলে দিই।

এবিষয়ে কথা হয়, বড়শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক, মাহবুবুর রহমান রিপন এর সাথে, তিনি সমীকরণকে বলেন, জাকির বিশ্বাসের মেয়ে ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত। দীর্ঘদিন যাবত সে নিজেই মানবেতন জীবন-যাবন করছে। সেই অবস্থা থেকেই সে যেভাবে অসহায় অসুস্থ মানুষের পাশে দাড়াচ্ছে এবং ফেসবুককে আর্তমানবতার সেবায় কাজে লাগচ্ছে, সেটা আমাদের সমাজে বিরল। তিনি সকলকে জাকির বিশ্বাসের মত করেই অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানান। তিতুদহ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জামাল উদ্দীন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য যে নিজের প্রচুর অর্থ থাকার প্রয়োজন পড়ে না, জাকির বিশ্বাস তার জলজ্যান্ত প্রমান। তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, জিয়াউর রহমান, জাকির বিশ্বাসের কাজের ভূষীয় প্রশংসা করে বলেন, আমাদের দেশে এধরনের কাজ করার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে একটি মানুষও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে মাবনতার সবায় নিয়োজিত হতে পেরে একদিন জাকির বিশ্বাস ও তার সহযোগিরা এলাকায় পরিচিত হয়েছেন মানবতার ফেরীওয়ালা হিসাবে। এই সংগঠনের সদস্যরা একই ভাবে তিতুদহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করা চার লক্ষ ১০ হাজার বায়ান্ন টাকা অনুদান দিয়েছেন।