নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের রেলক্রসিং ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে অনেকটা অরক্ষিতই রয়ে গেছে। রেললাইনের উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের তার যাওয়ায় ডাম্পারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রেলগেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী রেল কর্তৃপক্ষ এবং পল্লীবিদ্যুত অফিসের আন্তরিকতার অভাবকে দায়ী করছেন। এলাকাবাসী মনে করেন,উভয় সেক্টর যদি একটু আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসে তাহলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।কিন্তু কেউই কোনো প্রকার আন্তরিকতা দেখাচ্ছেনা। এদিকে ডাম্পারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রেলগেট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন গেটম্যান নিজেও।
তিনি জানান ডাম্পার কাজ না করার কারণে দুই রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্রেন আসার পূর্বে উভয় দিকের চালকদের আসতে নিষেধ করা হয়,যেটা আমার জন্য অনেকটা ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় নিষেধ অমান্য করে চালকরা দ্রুত গতিতে গেট পার হওয়ার চেষ্টা করে।ডাম্পারিং ব্যবস্থা ঠিক থাকলে কাউকে এভাবে মুখে মুখে নিষেধ করতে হতোনা। প্রসঙ্গত, উথলী রেলস্টেশনের আওতায় তিনটি রেলক্রসিং রয়েছে।যার দুটিতেই অরক্ষিত অবস্থা। শুধুমাত্র ঘোড়ামারা রেলক্রসিং গেটে ডাম্পারিং ব্যবস্থা চালু আছে। আর ফার্মগেটের রেলক্রসিং এ গেটম্যান থাকলেও ডাম্পার ব্যবস্থা ঠিক নাই।অপরদিকে সেনেরহুদা অভিমুখের রেলক্রসিংয়ে কোন গেটম্যানই নাই। শুধু গেটম্যান এর জন্য তৈরি ঘর আছে।
এছাড়া ফার্মগেট রেলক্রসিংয়ে দিনের বেলা গেটম্যান থাকলেও রাতে কেউ থাকে না। তবে দিনের তুলনায় রাতের বেলায়ই অধিকাংশ দ্রুত গতির ট্রেনগুলো চলাচল করে। আর উথলী ফার্মগেট রেলক্রসিংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা এই রাতের বেলায়ই ঘটেছে। কারণ, এই রাতের বেলায় সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর ধাক্কায় উথলী গ্রামের সবচেয়ে স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি, উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী সাইদুর রহমান(ধুন্দু) মৃত্যুবরণ করেন। এজন্য, এলাকাবাসীর জোর দাবি, আর কোন বড় দূর্ঘটনা ঘটার আগে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে ডাম্পারিং ব্যবস্থা চালু করা হোক। পাশাপাশি রাতের বেলায় ও গেটম্যানের ডিউটির ব্যবস্থা করা হোক।