নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাকুরীর পিছনে ছুটে,বিদেশে না যেয়ে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে নিজ উদ্যোগে হাঁসের খামার গড়ে সাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের হাঁসের সফল খামারী রাজু আহম্মেদ। মাত্র ৯৯ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করে বর্তমানে ১০ লক্ষ টাকার উর্দ্ধের মালিক সে। রাজুর এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক যুবকই এখন হাঁসের খামার গড়ার জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে আসে রাজুর কাছে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য চাকুরী পিছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে বর্তমান যুবক সমাজকে বিভিন্ন ধরনের কৃষি ও গবাদি পশুর খামার গড়ার পরামর্শ তার।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের তফিল উদ্দিনের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রাজু আহম্মেদ দেশের একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। ৩ বছর পূর্বে সেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে নিজ বাড়ীতে মাত্র ৯৯ হাজার টাকা পুজি নিয়ে গড়ে তোলেন একটি হাসের র্ফাম। প্রথম পর্যায়ে ৩শ টি হাঁস নিয়ে খামার গড়ে তুললেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাফল্য পায় সে। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা ১৬শ। প্রতিদিন গড়ে ডিম পায় ৯শ। হাসের খাবার,ঔষধ সহ খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে তার ইনকাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা। রাজুর হাঁসের খামারের হাঁস দেখাশোনার জন্য বতর্মানে ২জন কর্মকারী কাজ করছেন। রাজু প্রথমে বাইরের বিভিন্ন ফার্ম থেকে হাঁস ক্রয় করে নিজের ফার্ম শুরু করলেও বর্তমানে তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। খামারে হাঁস পালনের পাশাপাশি তিনি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরে মাছের জন্য আলাদা খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাঁসের বৃষ্টা মাছের খাবার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। হাসঁখামারী রাজু সমীকরণকে বলেন, যদি বৃষ্টির পরিমান বেশি হয়,সেক্ষেত্রে হাস চড়ানোর জন্য জায়গা পাওয়া যায়, যার ফলে হাঁসের কোন কেনা খাবার খেতে দিতে হয় না। আর তখন হাসের ডিম বিক্রি করে যা পাওয়া যায়, সবই লাভ হয়। বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে, সবাই চাকুরীর পিছনে ছুটছে। চাকুরীর পিছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে স্বল্প পুঁিজতে বিভিন্ন ধরনের খামার গড়ে তুলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।