নিজস্ব প্রতিবেদকঃচুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের মহাম্মদজুম্মা গ্রামে মুক্তার আলী (৩৪) নামের এক কৃষককে এলোপাতাড়ি ও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম কৃষককে রাতেই উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। জখম মুক্তার আলী মহাম্মদজুম্মা গ্রামের কৌদাপাড়ার হাশেম আলীর ছেলে।
জখম মুক্তার আলীর পিতা হাশেম আলী জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যারাতে মুক্তার রাতের খাবার খেয়ে ঘরের বাইরের বারান্দার চৌকিতে শুয়েছিলেন। রাত তিনটার দিকে বাবা হাশেম আলী উঠে দেখেন, মুক্তার তাঁর বিছানার ওপর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাশেম আলী আরও জানান, আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে বিছানায় মুক্তার জখম অবস্থায় পড়েছিলেন, সে বিছানায় কোনো রক্তের দাগ নেই।পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, অন্য কোথাও কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা তাঁকে তাঁর বিছানায় ফেলে রেখে গেছেন। মহাম্মদজুম্মা গ্রামের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মুক্তার আলী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। সে মাঝেমধ্যে রাতে ঘুম থেকে উঠে এর-ওর ঘরে উঁকি মারত। এ নিয়ে গ্রামের লোকজন তাকে উঁকি মারতে নিষেধও করেছে। তবে এ ঘটনা আসলে কী নিয়ে ঘটেছে, তা আমি বলতে পারব না।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে মুক্তার আলী নামের এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর পরিবারের লোকজন। তাঁর মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপের চিহ্ন রয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর জানান, এক ব্যক্তি রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমরা হাসাপাতালে এসেছি। ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) লুৎফুল কবির হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের কুতুবপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদজুম্মা গ্রামের এক কৃষককে কুপিয়ে জখমের খবর পেয়ে আমরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসেছি। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের কের আইনের আওতায় আনা হবে।