শিমুল রেজা, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জীবননগরে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে- কলমে শিক্ষা প্রদান করার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে সেগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তা ছাড়া অবহেলা আর অযন্তে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে, যার মধ্যে ৪টি বালিকা বিদ্যালয় ও ৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া উপজেলায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।
জীবননগর থানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে , ‘আমরা যারা কারিগরি (ভোকেশনাল) শাখায় পড়াশোনা করি, আমাদের স্কুলে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি যদি বাস্তবে কিছু শিক্ষা প্রদান করা হতো, তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারতাম।
আমাদের স্কুলে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদানের জন্য সমস্ত জিনিস থাকা সত্ত্বেও আমাদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন,
তার মধ্যে অন্যতম কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষে যাতে কোনো রকম বেকার বসে না থাকে, সে জন্য হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক সরঞ্জাম প্রদান করেছেন, কিন্তু কারিগরি শাখার শিক্ষার্থীদের শুধু ক্লাস নেওয়া ছাড়া তাদের হাতে- কলমে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে না। যার ফলে প্রতিবছ পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলেও তারা বাস্তব শিক্ষা না পাওয়ায় কর্মসংস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর থানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা কারিগরি শাখায় সব শিক্ষার্থীর তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাও প্রদান করে থাকি। আমাদের আওতার মধ্যে যতটুকু আছে, আমরা সে অনুযায়ী ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করি। তবে এখানে কিছু সমস্যা থাকার কারণে একটি বিষয় বন্ধ রয়েছে।’ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে না, বিষয়টি শুনে আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। আশা করি, এ বিষয়ে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।