বিশেষ প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর করপাড়া ইউপির ভাটিয়ালপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে প্রকাশ্যে নির্যাতনের পর ১৮ দিনেও মামলা করতে পারেনি শাহীন আক্তার নামে এক গৃহবধূ। স্থানীয় বখাটে নাইম হোসেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নানা হুমকি-ধমকিতে নির্যাতনে শিকার গৃহবধূর পরিবার পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে গৃহবধূ শাহিন এবং তার মা রৌশন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গৃহবধূ শাহীন যাতে স্থানীয় মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে না যেতে পারে সেজন্য বখাটে নাইম বাড়ির সামনে পাহারা বসিয়েছে। নাইম উপজেলার করপাড়া ইউপির ভাটিয়ালপুর বেপারী বাড়ির আ. রহিমের ছেলে।
উপজেলার করপাড়া ইউপির সাবেক নারী মেম্বার রৌশন আক্তারের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলা মামলা প্রত্যাহার করতে বখাটে নাইম হোসেনসহ অন্যান্য আসামি ও তাদের স্বজনেরা গৃহবধূ শাহীন ও তার মাকে নানা ভয়ভীতি অব্যাহত রেখেছে। একপর্যায়ে শাহিন আক্তার হুমকি-ধমকির প্রতিবাদ করে মামলা তুলবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে গত ২৩ জুন বিকেলে সন্ত্রাসী মো. নাইম হোসেন তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে অর্তকিতভাবে শাহিন আক্তারকে জনসম্মুখে বেদম মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে নাইম ও তার লোকজন পালিয়ে যায় এবং বাড়ির লোকজন শাহীনকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি দেখে স্বজনেরা তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে। গৃহবধূ শাহিন আক্তার বলেন, আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করতে দিন- রাত আমার মাকে হুমকি ধমকি দেয়। জীবন রক্ষার্থে মা আমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ২৩ জুন নাইম তার লোকজন নিয়ে সবার সামনে আমাকে পিটানো শুরু করে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিয়ে লুটে পড়লে মৃত ভেবে চলে গেলে লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শাহীন আক্তারের মা মামলার বাদী রৌশন আক্তার বলেন, নাইম এলাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ভয়ে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। এ নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।