সাতক্ষীরা প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে জলদস্যুতায় সংশ্লিষ্ঠ থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে সুন্দরবনের দস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদা আদায় ও অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেফতাররা হলেন- সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মামুনুর রহমান ওরফে খোকা বাবু, দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দীন গাজীর ছেলে আলাউদ্দীন গাজী, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল হাকিম গাজীর ছেলে তৈয়েবুর রহমান কামরান ও একই এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে রহমান এন্টার প্রাইজের মালিক সাইদুর রহমান সাইদ। এসপি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় গত ২০ জুন শ্যামনগরের ৮/৯ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে কতিপয় জলদস্যু। এরপর তাদেরকে সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে নিয়ে যায় তারা। অপহরণকারীরা পরে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ নিয়ে ওই সব জেলেদের ছেড়ে দেয়।
তিনি বলেন, পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পর পুলিশের একাধিক টিম জলদস্যুদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। এ সময় ওই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এছাড়া এ ঘটনায় পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক প্রদীপ, পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা এলাকার মিঠুন দাস এবং ভারতের বসিরহাট ত্রিমোহিনী এলাকার আক্তার আলম গাজী, পান্না, বাপ্পী ও ঘোজাডাঙ্গা এলাকার হাসান এন্টার প্রাইজের মালিক নুনু। তিনি জানান, ওই ব্যক্তিরা জলদস্যুদের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন থেকে জেলেদের অপহরণ করে জোরপূর্বক আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, মারপিটসহ নানাভাবে তাদেরকে নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় গ্রেফতার ৪ জনসহ ওই ১০ জনের নামে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৮। তিনি জানান, গ্রেফতার আসামির মধ্যে সাইদুর রহমান সাইদ, অপহৃত এশার আলী ও এ মামলার সাক্ষী সৈয়দ হারিজ হোসেন তুহিন ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন।