যশোর প্রতিবেদকঃ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মোটরসাইকেলে ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ হারালেন সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহকারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআর) করোনা যোদ্ধা সাধনা রানী মিত্র। নিজেই করোনায় আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে ফের সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহে নেমে পড়েন নিহত এই করোনা যোদ্ধা। সোমবার সকালের দিকে হাম-রুবেলা টিকা সংক্রান্ত কাজে পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন সাধনা রানী মিত্র। পথে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মধ্যকুল নামক স্থানে মোটরসাইকেলের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গেলে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। তাকে আহত অবস্থায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণে) থাকা অবস্থায় হাসপাতালের নিউরো সার্জন রুস্তম আলী ফারাজী রাত ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন। সাধনা রানী ১৯৬৮ সালের ১ জুন পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কমলেস চন্দ্র হালদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২ এপ্রিল থেকে মনিরামপুর হাসপাতালে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের শুরু থেকে তিনি নমুনা সংগ্রহের অগ্রভাগে থেকে কাজ শুরু করেন। ২৭ এপ্রিল নিজেই নিজের নমুনা সংগ্রহ করার ২ দিন পর আসা রিপোর্টে তিনি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। নিয়ম মেনে আইসোলেশনে থাকার পর ১৪ দিন পর ফের নিজেই নিজের নমুনা সংগ্রহ করার পর পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।