বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ১৫ যুবক তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে। চক্রটির নারী সদস্যরা টার্গেট পুরুষকে মোবাইল ফোনে মিস কল দিয়ে তার
সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে নির্দিষ্ট একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে যুবককে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে তা প্রকাশ করার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। আর চক্রের পুরুষ সদস্যরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা আক্তার ঝুমু (২৫) প্রায় এক মাস আগে নগরীর এক যুবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। মঙ্গলবার রাতে ঝুমুর সরকারি বরিশাল কলেজ এলাকায় ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করে। সেখান থেকে শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় ওই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাসায় পৌঁছার পর একটি কক্ষের ভেতরে আটকে ঝুমুর, জাকির ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা মনি জোরপূর্বক যুবককে বিবস্ত্র করে ছবি তোলে। এরপর ঝুমুরকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে সঙ্গে থাকা টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে মোট ১৯ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার আরও জানান, ওই যুবক মুক্তি পেয়ে রাত ৮টায় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করে। রাতেই পুলিশ জাকিরের বাসায়।অভিযান চালিয়ে জাকির ও তার স্ত্রী মনি এবং কলেজছাত্রী
ঝুমুরকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামুন বয়াতি (৩৪), সেলিম হাওলাদার (৪৫), মকবুল হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রী লিজা বেগম (২৫), আরিফুর রহমান তালুকদার (৩০), খুশি বেগম (৪০) এবং আশা আক্তারকে (২০)।আটক করা হয় এ চক্রের ১০ জন আটক করা হলেও তাদের সঙ্গে আরও অনেকে রয়েছে। তাদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।