ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ফয়সালা হওয়ার পর তামিম ইকবাল মাশরাফিকে কাঁধে তুলে নিয়ে ঘুরলেন। ঠিক যেমনটা মাশরাফি নেতৃত্বের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। মাশরাফির অধিনায়কত্বের বিদায়ি সিরিজে জিম্বাবুয়েকে
হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ৩২২ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। মাশরাফির ম্যাচ বোধহয় রাঙিয়ে দেওয়ার পণ করে নেমেছিলেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। দুজনে মিলে ওপেনিং জুটিতে ভেঙে দিলেন ২১ বছর আগের রেকর্ড। ১৯৯৯ সালে মেরিল ইন্টারন্যাশনাল কাপে এই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই মেহেরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ওপেনিং জুটিতে তুলেছিলেন ১৭০ রান। শুক্রবার (৬ মার্চ) সেই রেকর্ড ভেঙে তামিম-লিটন ওপেনিং জুটিতে তুলে ফেললেন ২৯২ রান।
যেখানে লিটনেরই অবদান ১৭৬। এটা বাংলাদেশের পক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। কম যাননি তাঁর অগ্রজ তামিম ইকবালও। তিনিও টানা সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। শেষ অবধি ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। এই দুজনের সৌজন্যে নির্ধারিত ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে বাংলাদেশ পেয়ে যায়
৩২২ রানের বড় সংগ্রহ। মাঝে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ না হলে বাংলাদেশের স্কোর হয়তো ৪০০-এর কাছাকাছি চলে যেত। বৃষ্টির জন্য ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। আর সেটা দেখেই বৃষ্টির পর ঝড় তোলা শুরু করেন লিটন। যখন থামলেন তখন তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১৭৬। লিটন নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৪৩ বলে ১৬টি চার এবং আটটি ছক্কায়। লিটন আউট হলেও শেষ অবধি খেলে উঠে এসেছেন তামিম।ক্যারিয়ারের ১৩ নম্বর সেঞ্চুরিটাকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন ১২৮ রানে। ১০৯ বলে সাত চার আর ছয় ছক্কায় এই রান করেন তামিম। ৬৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল বোলার কার্ল
মুম্বা। ৩২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ওভারেই ধাক্কা দিয়েছেন মাশরাফি। প্রথম ওভারেই নড়াইল এক্সপ্রেস লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন তিনাশে কামুনুকাওকে (৪)। দ্বিতীয় ধাক্কা দিয়েছেন সাইফউদ্দিন
ব্রেন্ডন টেলরকে (১৪) মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচ বানিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে একমাত্র ফিফটি করেছেন সিকান্দার রাজা। ৫০ বলে তিনি ৬১ রান করেছেন। এছাড়া মাদেভারে ৪২ এবং অধিনায়ক শন উইলিয়ামস ৩০ রান করেন। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ৩৮ রানে ২ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে দুজনের- আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ নাঈম। এর আগে দুজনেই টি- টোয়েন্টি খেলেছেন। কিন্তু ওয়ানডে খেলা হয়নি। মাশরাফির নেতৃত্বে একেবারের শেষ বেলায় দুজনের অভিষেক হলো।
পাকিস্তান সফরের কথা বিবেচনা করে দলে রাখা হয়নি মুশফিকুর রহিমকে। আঙুলের চোটের কারণে নেই নাজমুল হোসেন শান্ত। তাছাড়া দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রামে থাকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান ফের দলে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম, আফিফ
হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। জিম্বাবুয়ে একাদশ: টিনাশে কামুনহুকামওয়ে, রেজিস চাকাভা, শন
উইলিয়ামস (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্রেন্ডন টেলর, টিনোটেন্ডা মুতুম্বোজি, রিচমন্ড মুতুম্বামি (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা, ডোনাল্ড তিরিপানো, কার্ল মুম্বা, চার্লটন শুমা