উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার ১০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের পরিকল্পনায় প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং মহাবিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা হয়েছে এসব কর্নার। কর্নারগুলোতে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ঐতিহাসিক
তাৎপর্যপূর্ণ ছবি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর লিখিত গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য বই, বীরশ্রেষ্ঠসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও বীরদের তথ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এতে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু,।মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার দৃশ্যপট। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি
সুবিধামতো সময়ে কর্নারে বসে মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও অনুভব করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প কাহিনি পড়ে ও ছবি দেখে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, বাঙালির বীরত্বগাথাসহ মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানার আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।

উপজেলার উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জানায়, পাঠ্যবই পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি। এখন মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের ছবি ও তথ্য দেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারছি। পাকিস্তানিদের
নির্যাতন কত ভয়ঙ্কর ছিল ছবিগুলো দেখলেই তা বোঝা যায়। ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার।
উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোস্তফা সাঈদ রিজন জানায়, মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রগুলো আমাদের মনকে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে আমাদেরকে উৎসাহিত করছে এই কর্নার। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে গেলেই মুক্তিযুদ্ধের একটা ছবি আমাদের সামনে ভেসে ওঠে।
উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকরাম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রগুলো আমাদের মনকে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ছোটবেলা থেকেই তাদের মাথায় মুক্তিযুদ্ধের একটা চিত্র গেঁথে যাচ্ছে।

উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, এদেশে ইতিহাস বিকৃতির একটি অপচেষ্টা রয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি কীভাবে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। যার জন্ম না হলে
বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, সেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ও তার অসামান্য অবদান মুছে ফেলার হীন চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিকৃত ইতিহাসের অন্ধকার গলিপথে হাঁটানো হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ নতুন প্রজন্মকে ভুল ও বিকৃত ইতিহাস শেখাতে না পারে সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ভূমিকা রাখবে।
জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি।প্রজন্ম তৈরি করার উদ্দেশ্যেই মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে তার শেকড়কে জানা উচিত। আর আমাদের শেকড় হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। এজন্যই শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করে তোলা, চিন্তা চেতনায় দেশাত্মবোধ, জাতীয়তাবোধ তথা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলাজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার গড়ে তোলা হয়েছে।