পাবনা প্রতিবেদকঃ পাবনায় বন্যায় যমুনা নদী তীরবর্তী বেড়া উপজেলার ৪ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানিতে ভাসছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। যমুনা নদীর পানি বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাকবলিত হয়েছে হাটবাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি। এ সব এলাকার শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ। বন্যার্তদের জন্য পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হলেও কোনো নগদ অর্থ বরাদ্দ হয়নি। বরাদ্দের চাল বিতরণ পুরাপুরি শুরু হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ২০ জুলাই থেকে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী জানান, বেড়া উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে যমুনা নদী তীরবর্তী ৪টি ইউনিয়ন পুরানভারেঙ্গা, নতুন ভারেঙ্গা, নাকালিয়া এবং রূপপুর ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ১৩ হাজার পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে এ সব চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, বেড়া উপজেলার ৪ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখন পানিতে ভাসছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের (মুজিব বাঁধ) বাইরে হওয়ায় পুরো জনপদ ডুবে গেছে। এ ইউনিয়নের চরাঞ্চল পুরোটাই পানির নিচে। পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, বক্তারপুর, মধুপুর, যদুপুর, কল্যাণপুর, পুকুরপাড়, বোরামারা, পেঙ্গুয়া, গংরাজানি, দেওনাই, ভারেঙ্গা, গঙ্গাদিয়া, গণপতদিয়া, রূপপুর ইউনিয়নের ঘোপসেলন্দা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের মালদাপাড়া, পেঁচাকোলাসহ ৪ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখন পানিতে ভাসছে। এ সব এলাকার কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বন্যাকবলিত হয়েছে এ সব এলাকার হাটবাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি। এ সব এলাকার শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ। কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ও ঘরে পানি ঢোকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্রামের উঁচু রাস্তায় রাখা হয়েছে গবাদিপশু। পুরান ভারেঙ্গা ও রূপপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল, মাদ্রাসা, রাস্তাসহ প্রচুর বাড়িঘর পানিতে ডুবে রয়েছে। ডুবে গেছে শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের। অনেক বাড়ির উঠানে ও ঘরে কোমর সমান পানি। এ সব বাড়ির লোকজনের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
পুরান ভারেঙ্গা ও রূপপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল, মাদ্রাসা, রাস্তাসহ প্রচুর বাড়িঘর পানিতে ডুবে রয়েছে। ডুবে গেছে শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের। অনেক বাড়ির উঠানে ও ঘরে কোমর সমান পানি। এ সব বাড়ির লোকজনের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রূপপুর ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় আমার ওয়ার্ডের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড়শ’ পরিবারের বাড়িঘর পানিতে ডুবে রয়েছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় এ সব পরিবারের বেশিরভাগ লোকজন পানির ভেতরেই বসবাস করছেন। পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহ বলেন, আমার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডই এখন পানির নিচে। ২ হাজার পরিবারের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বন্যাকবলিতদের জন্য চাল বরাদ্দ হলেও কোনো নগদ টাকা বরাদ্দ হয়নি।