সোমবার, ২৯ জুন ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

দামুড়হুদার দর্শনায় কৃষি বিভাগের সহয়তা ছাড়ায় আঙ্গুর ফল চাষে সফল মামা-ভাগ্নে

Reporter Name / ৬৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় কৃষি বিভাগের সহয়তা না পেয়ে নিজ প্রচেষ্টায় আঙ্গুর ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছে মামা আমিরুল ইসলাম ও ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম। ভাগ্যের উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশের অঙ্গুরের চাহিদা মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে। আঙ্গুর চাষের কথা জানতে পেরে তৎক্ষণাত বাগানে ছুটে আসেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।আঙ্গুর পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলসমূহের মধ্যে অন্যতম। আঙ্গুর ফল
সবার কাছেই সুপরিচিত এবং সমাদৃত। বাংলাদেশের আঙ্গুর ফলের অনেক চাহিদা থাকলেও দেশে এ ফলটির চাষ না হওয়ায় এ ফলটি চাষে উদ্ভদ্ব হয় আমিরুর ইসলাম। তিনি ভারতের মুম্বাই একটি আঙ্গুর বাগানের মালিকের কাছ থেকে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি সম্বন্ধে জানেন। পরবর্তীতে কলকাতার একজন ট্রাক চালকের মাধ্যমে মুম্বাই এর নাসিক থেকে ২৫ টি আঙ্গুর চারা দর্শনা সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনেন। এসময় তিনি আঙ্গরের চারা রোপনের ব্যাপারে সহয়তা চাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে। আঙ্গুরের ২৫ টি গাছের চারা থেকে ৪ টি চারা নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্ততে নিজেই তার দর্শনার আনোয়ারপুর হঠাৎপাড়ার ৬ কাঠা জমিতে আঙ্গুরের চারাগুলো রোপন করেন। প্রথমবার আমিরুল ইসলামের পরিচর্চা ও নিবীর পর্যবেক্ষণের পর গাছ গুলেতে সামান্য কিছু ফল আসে। পরবর্তীতে কৃষি
পারদর্শী ভাগ্নে তরিকুল ইসলামের পরামর্শে ভালো ফলের আশায় তারা একসাথে গাছগুলোর পরিচর্চা শুরু করেন। এবছর গাছগুলোতে লক্ষমার্ত্রার অধিক আঙ্গুর
ফল পেয়ে খুশি তারা। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ধরেছে ২০ থেকে ২৫ কেজি আঙ্গুর। পরিপক্ক পাকা আঙ্গুরগুলো ভারতীয় আঙ্গুরের ন্যায় মিষ্টতা পেয়েছে।
৬ কাঠা জমিতে আঙ্গুর চাষে তাদের খরচ হয় ২২ হাজার টাকা তবে এবছর গাছে যা ফল এসেছে তা থেকে ১লক্ষ টাকার অধিক আয় করতে পারবে বলে ধারণা করছে মামা-ভাগ্নে। বাংলাদেশের মাটিতে আঙ্গুরফল চাষের কথা জানতেপেরে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ বাগানটিতে ভিড় জমাচ্ছে নিজ চোখে আঙ্গুরফল
দেখতে ও ছবি তুলতে। আঙ্গর চাষি তরিকুর ইসলাম বলে, আঙ্গুর চাষে অনেক
টাকা খরচ হয়না। মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ১ বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষ করে এক বছরেই ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করা যায়। কৃষি বিভাগের সহয়তা পেলে দেশের শিক্ষিত যুবক ও কৃষকরা আঙ্গুর চাষে ঝুকবে এবং দেশের আঙ্গুরের চাহিদা পূরণ করতে পারবে বলে আমি মনে করি। দর্শনার্থী সিমন রেজা বলেন, আমার দেশে আঙ্গুরফল চাষ হচ্ছে জানতে পেরে প্রথমে অবাক হয়েছি। এখন আঙ্গুর বাগানে এসে নিজ চোখে ফলগুলো দেখে অনেক ভালো লাগছে। অঙ্গুর গুলো অনেক মিষ্টি ও সুস্বদু। ছোট এ রসালো ফলটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে, সি, বি১, বি৬ এবং খনিজ উপাদান ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। আঙ্গুর কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, প্রদাহ ,অ্যাজমা ও হৃদরোগের মতো রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অপর দর্শনাথী ইমরান হোসেন বলেন, বাগানের আঙ্গুর ফল গুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও কৃষি বিভাগের সুদৃষ্টি পড়লে দেশে অঙ্গুর চাষে সফলতা পাওয়া যাবে। এবং দেশের বেকার যুবকরা আঙ্গুর চাষে ঝুকবে। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরজ্জামান জানান, আঙ্গুর একটি সুস্বাদু ফল এ ফলের আছে নানা খাদ্য ও ভেষজ গুণ। বানিজ্যিক ভাবে অঙ্গুর চাষে কৃষি বিভাগের সার্বিক সহোযোগিতায়া তাদের করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর