জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা গাংনী উপজেলার সালদা গ্রামের বাবুল হোসেনের ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীকন্যা দীপা খাতুনের বিয়ে ঠিক হয় একই উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আবুল কালামের কিশোর ছেলে বাচ্চু আলীর সাথে। নিজ এলাকায় বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে তাড়া খেয়ে পালিয়ে এসে কৌশলে পার্শ্ববর্তি আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে একরামুল হকের
বাড়িতে ওই বাল্যবিয়ের আয়োজন করে। গতকাল গভীর রাতে থেকেই বিয়ের আয়োজন চলছিল। পূর্বেই বর-কনে ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। গভীর রাতেই কাজী স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন নূর উদ্দীন উপস্থিত হয়ে বর-কনের প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধের কাজ শুরু করেন। ঠিক সে সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মোহা: লিটন আলী। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাজী নূর উদ্দীন ও ঘটক মেহেরপুর জেলা গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের তৈয়ব আলীকে
৫ দিন করে কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। একই সাথে বাল্যবিয়ের বর কিশোর বাচ্চু আলী, বিয়ে বাড়ির মালিক একরামুল হক ও কনের চাচা মেহেরপুর জেলা গাংনী উপজেলার সালদা গ্রামের ইসরাইল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
অন্যদিকে, একই রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঁটাভাঙ্গা গ্রামে পৃথক আরেকটি বাল্যবিয়ের আয়োজন করে। কাঁটাভাঙ্গা গ্রামের মহসিন আলীর এসএসসি ফল প্রার্থী কিশোরীকন্যা টাইরা খাতুনের বিয়ে একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এখার উদ্দীনের ছেলে ফিরোজ আলীর সাথে আয়োজন করে। রাতেই বরযাত্রি
বিয়ে বাড়ি পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ লিটন আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ের কাজী বাড়াদী
গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুস সাত্তারকে ১০ হাজার, বাল্যবিয়ের কনের বাবা মহাসিন আলীকে ৫ হাজার ও বাল্যবিয়ের বর ফিরোজ আলীকে ৫ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে জরিমানা করেন।