কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মহিলাসহ ১১ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল আটক এবং লুন্ঠিত নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচিং নামক স্থান থেকে উদ্ধার করা
হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দ্রুত বিচার আইনসহ একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতরা হলো- কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন্দের শহীদুল ইসলামের পুত্র জহিরুল ইসলাম (২৫), বুলেট (২৮), সদর দক্ষিণ উপজেলার
উত্তর রামপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের কামরুল হাসান সবুজ (২৬), আব্দুল কুদ্দুসের পুত্র মোঃ ফেরদৌস হোসেন (২৮), মৃত মহাতব হোসেনের পুত্র মোঃ কামাল হোসেন (৪৫), চৌদ্দগ্রামের সুয়ারিখল এলাকার ফারুক আহমেদের পুত্র ফাহিম আহম্মদ (২২), চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামের মো: আনোয়ার হোসেনের পুত্র মোঃ সুমন হাসান (২৮), কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তাপুর গ্রামের আব্দুল ওহাবের পুত্র নেয়ামত উল্লাহ (২৫), শ্রীমন্তপুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের পুত্র জুয়েল ওরফে আকাশ (২০), উত্তর রামপুরের আব্দুস কুদ্দুসের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)। এ সময় ৫টি রাম দা, ০২টি দেশীয় তৈরী চাইনিজ কুড়াল ও ঘটনায় ব্যবহৃত উপরোক্ত মাইক্রোবাস উদ্ধার পূর্বক জব্দ
করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানা যায়-রবিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাবুর্চি বাজার এলাকায় মো. শাহিন আলম নামের এক ব্যাক্তি চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলো। এসময় মোটরসাইকেল যোগে ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য ওই ব্যাক্তির উপর হামলা চালায় ও গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে সাথে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় ওই ব্যাক্তির শোরচিৎকারে প্রথমে স্থানীয়রা ও পরে
সড়কের টহলরত হাইওয়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ৩জন ডাকাতকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারে মাইক্রোবাস যোগে আরও ৮জন ডাকাত পুলিশের উপর আক্রোমন চালানোর চেষ্টা করলে পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একাধিক টিম ১জন মহিলাসহ ওই ৮জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এসময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণে
দেশীয় অস্ত্র, টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। ডাকাতদ্বয়ের নিকট হতে ০১টি চাকু, লুন্ঠিত ব্যাগ, নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ উদ্ধার হয়। অপর সহযোগী ডাকাত বুলেট পাশর্বর্তী গ্রামের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ডাকাতদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক সহযোগী ডাকাত বুলেট (২৮) এর নাম ঠিকানা ও আত্মগোপনের সম্ভাব্য স্থানের তথ্য নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা
পুলিশ কয়েকটি টিমে বিভক্ত হয়ে রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় তল্লাশী অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে পলাতক ডাকাত বুলেট (২৮) মোবাইল ফোনে তার অন্যান্য সহযোগীদের সংবাদ দিলে তারা ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-২২১৭ রেজিঃ নম্বরের মাইক্রোবাস (হায়েস) গাড়ী যোগে ৮ ডাকাত চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ঘোলপাশা ইউনিয়নস্থ বাবুর্চি এলাকার একতা ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন
করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আতংক সৃষ্টি করে আতগোপনে থাকা ডাকাত বুলেটকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে ডাকাতদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস (হায়েস) গাড়ীর মুখোমুখী হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশের সদস্যরা মাইক্রেবাসটিকে দাড়ানোর সংকেত দেয়া মাত্রই বর্ণিত ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উপরোক্ত ৮জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেন এবং মূল ডাকাত বুলেটকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার ডাকাতদের হেফাজত হতে ৫টি রাম দা, ০২টি দেশীয় তৈরী চাইনিজ কুড়াল ও ঘটনায় ব্যবহৃত উপরোক্ত মাইক্রোবাস উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেন। আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, মাদক ও বিচার আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন কৌশলে ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতা করে আসছিল। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরও জানান- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতে আটককৃত ডাকাতরা কৌশলে ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে
বিভিন্ন থানায় একটি মামলাও রয়েছে বলে তিনি জানান।