বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণের পর সামিয়া হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

Reporter Name / ১৪৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একই ভবনে বসবাস। অথচ মাথার উপরে ধর্ষক, জানতে না সামিয়া আফরিন সায়মার (৭) বাবা-মা। রাজধানীর ওয়ারিতে শুক্রবার ধর্ষণের পর শিশু সামিয়াকে হত্যা করা হয়। এরপর তাদের ফ্ল্যাটের ঠিক উপরের ফ্ল্যাটের
বাসিন্দা হারুন-অর রশীদকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ধর্ষক ছোট্ট সামিয়াকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। যেটি রোববার দুপুরে ব্রিফ্রিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।তিনি জানান, হারুন বাড়ির ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে
সামিয়াকে নয় তলার নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানেই ধর্ষণ করে। এরপর নিস্তেজ সায়মাকে মৃত ভেবে গলায় রশি বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে রান্নাঘরে রেখে পালিয়ে যায়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার ডাবরডাঙ্গার নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে হারুন-অর রশীদকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় শিশু সামিয়া তার মাকে আটতলায় যাওয়ার কথা বলে। আটতলার ওই ফ্ল্যাটের মালিক পারভেজেরও শিশুকন্যা রয়েছে। মূলত তার সঙ্গে খেলতেই সেখানে যায় সামিয়া। পারভেজের স্ত্রী সামিয়াকে জানায়, তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। এরপর সে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরতে লিফটে ওঠে। সেখানেই দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের সঙ্গে। পূর্বপরিচিত হওয়ায় হারুন সামিয়াকে ছাদ ঘুরে দেখানোর লোভ দেখান। এতে সেও রাজি হয়ে যায়। আব্দুল বাতেন বলেন, ‘পরে ছাদে নিয়ে গিয়ে হারুন সামিয়ার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। যন্ত্রণায় চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে। এক সময় সামিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন মৃত ভেবে রশি গলায় বেঁধে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গায় পালিয়ে যান হারুন।’ তিনি বলেন, ‘খালাতো ভাই পারভেজের বাসায় থেকে বিগত দুই মাস ধরে হারুন রঙের দোকানে কাজ করতেন। সামিয়া হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় হারুনকে আজই আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান আব্দুল বাতেন।এই ধরনের অপরাধকে মানবতাবিরোধী দাবি করে তিনি বলেন‘এটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা। মানবতাবিরোধী অপরাধ। এরা অপকর্মের পর যখন বুঝতে পারে বাঁচতে পারবে না, তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। সামিয়াকে ধর্ষণের পর হারুনও এটাই করেছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সামিয়ার খোঁজ পাচ্ছিলেন না তার পরিবারের সদস্যরা। পরে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার নবনির্মিত একটি ভবনের নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওয়ারির সিলভারডেল স্কুলে নার্সারির ছাত্রী ছিল সামিয়া। ওই ঘটনায় তার বাবা আবদুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ওয়ারি
থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ভবনের ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সামিয়া। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সামিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর