রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া লালনের ১২৯তম তিরোধান দিবস

Reporter Name / ৯৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুষ্টিয়া গুরুর কালাম ধারণ করে দেশ-বিদেশ থেকে লালন সাঁইয়ের টানে ছেঁউড়িয়ায় তীর্থধামে সমবেত হয়েছেন সাধু- মহাজন-ভক্তরা। তাদেরই একজন ফিরোজ শাহ ফকির। তিনি এসেছেন মেহেরপুর থেকে। একতারায় তুলেছেন গুরু ভজন। গাইছেন সাঁইয়ের কালাম-‘যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খিরিস্টান, জাতি গোইত্র নাহি রবে, এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে

তিনি বলেন, মানুষ হলেন আশরাফুল মকলুকাত; স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, এই মানুষকে সাঁইজি যেখানে বিভেদ করে দুনিয়ায় পাঠায়নি! তাহলি এই মানুষের মাঝে কেন এত ভেদাভেদ সৃষ্টি করি? কে হিন্দু, কে মুসলিম, বৌদ্ধ বা খিরিস্টান, কোন জাতি বা গোত্রের সেটা কোন মানুষের পরিচয় নয়। বিশ্বমানব দর্শনের একটাই মূল দর্শন সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। তাই গুরুর কালাম হলো সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার’। তাই মানুষকে ভক্তি ও সেবার মধ্যদিয়ে মানব প্রেমের ক্ষুধা মেটাতেই ভক্ত-আশেকানদের এই সঙ্গ থেকেই আত্মার শান্তি খোঁজার একটু চেষ্টা মাত্র।

লালনের ১২৯তম তিরোধান দিবসকে ঘিরে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টায় এই স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে লালন মেলালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী বক্তব্য প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, লালনের গানের বাণী গোটা মানব জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভেদ নিরসনে আজ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

লালন সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে তুলে ধরার শুধু চেষ্টাই করেননি তিনি এই আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামও করেছেন। তাই এই সংগ্রামী সাধকের মর্মবাণীকে সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত করতে একটি লালন বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত-কাল ভেদাভেদের ফলে মানবজাতি আজ কাটাকাটি হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে সেই দর্শনবোধ থেকে লালন তার আদর্শিক সংগ্রামে যেমন ছিলেন অবিচল ঠিক একইভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে বলেছিলেন- ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’, তাই ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে লালনের গানের মর্মবাণীর যথার্থ মূল্যায়ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর