মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

৬০ হাজার টাকায় ধর্ষণ মামলার মীমাংসা, নিখোঁজ ভুক্তভোগী নারী

Reporter Name / ৬৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ী প্রতিবেদকঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দুই সন্তানের মাকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ৬০ হাজার টাকায় মীমাংসা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন ভুক্তভোগী নারী।শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার বিষয়টি জানাজানি হয়।অভিযুক্তরা হলেন- মুদি দোকানি আজিবর ও জয়নাল। তাদের বাড়ি উপজেলার গ্রামে। ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে।স্থানীয়রা জানায়, ভর্তি থাকা আত্মীয় এক শিশুকে দেখতে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে এসেছিলেন ওই নারী। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল গেটের কাছে পানি আনতে যান। এ সময় মুদি দোকানি আজিবর ও জয়নাল ফুসলিয়ে দোকানের ভেতর নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি শিশুটির মাকে ঘটনাটি জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার রাতে বাজার ব্যবসায়ীরা মাসুদ মোল্লার ঘরে সালিশের আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, মো. বাবলু, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকেই ছিলেন। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় মাতবররা অভিযুক্ত দুজনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দেন। এরপর থেকে ভুক্তভোগী নারীর কোনো খোঁজ নেই।

ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় শিশুটির মা বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর আমাকে বিষয়টি জানান ওই নরী। সামাজিক লোকলজ্জা এবং মান-সম্মানের কথা ভেবে থানা পুলিশকে জানানো হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সালিশ করে বিষয়টির মীমাংসা করেছেন। তবে জরিমানার কোনো টাকা ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে দেয়া হয়নি। সালিশের পর তাকে মধুখালী পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমি সোমবার তাকে খুঁজতে মধুখালী গিয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি।বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা বলেন, বিষয়টি জানার পর দুই পক্ষকে এক জায়গায় করে ঘটনাটি শুনি। শনিবার রাতে সালিশে সবকিছু শোনার পর প্রমাণ হয় ঘটনা সঠিক। ওই নারীকে দোকানের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করেছে আজিবর ও জয়নাল। সালিশে তারা দোষ স্বীকারও করেছে। এ কারণে তাদের ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব টাকা তারা দিতে পারেনি। পরে ওই নারীর সঙ্গে তাদের আপস হয়ে গেছে বলে শুনেছি।এমন ঘটনায় আইনের আশ্রয় না নিয়ে সালিশ আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত লোক দুটি গরিব। তাদের ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এসব বিবেচনা করে আইনের আশ্রয় নেয়া হয়নি।বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারেকুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের ঘটনার কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর