মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ভাষনের ৫০ বছর পালন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্প মাল্য অর্পন তালা’র ৬৭জন নৌকা প্রতিক প্রত্যাশীর ১১জনই খেশরা ইউনিয়নের খাউলিয়ায় আলহাজ্ব মাস্টার সাইদুর রহমান কে নৌকার মাঝি হিসাবে চায় দলীয় নেতাকর্মীরা নারী দিবসের প্রাক্কালে আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুরে এক বোনের জমি ,আরেক বোন জবর দখলের চেষ্টা ‘স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও আমরা’লেখক আলমডাঙ্গায় ২ বেকারিতে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা জীবননগরে পাট চাষিদের এক দিনের প্রশিক্ষণ জমি নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে বাবার মৃত্যু ফলোআপ: ছোট্ট শিশু কোলে নিয়ে ভাইরাল ইউএনও দিলারা ছদ্মনামে মোবাইলে প্রেম, ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে যুবকের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

Reporter Name / ১৯০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) নামের এক যুবকের নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হান মারা গেছেন বলে প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছিলো বলেও অভিযোগ পরিবারের। আটকের পর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। নিহত রায়হান আহমদ সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক। নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্ফারের চেম্বারে তিনি চাকরি করতেন। এদিকে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশ গিয়ে তাদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, কর্মস্থল চিকিৎসকের চেম্বার থেকে ফিরতে দেরি দেখে শনিবার রাত ১০টায় রায়হানের মোবাইলে ফোন করেন মা ও স্ত্রী। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ভোর ৪ টা ২৩ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে রায়হান জানায় পুলিশ তাকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছে। এখন তার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাচ্ছে। টাকা দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেবে। এ সময় কেঁদে কেঁদে রায়হান তাকে বাঁচানোর আকুতি জানায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই মোবাইল নম্বরটি বন্দর ফাঁড়ির কনস্টেবল তৌহিদের। এদিকে ছেলেকে পুলিশে ধরেছে শুনে রায়হানের মা তার চাচাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ রোববার ফজরের সময় টাকা নিয়ে ভাতিজা রায়হানকে ছাড়িয়ে আনতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান।

এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, আপনার ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা। আপনি ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসলেন কেন? চলে যান, রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে এবং যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও ফাঁড়িতে নেই। আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল ৯টার দিকে আসেন। আসলেই তাকে নিয়ে যেতে পারবেন। তাকে আমরা কোর্টে চালান করব না। এরপর রায়হানের চাচা বাসায় চলে যান এবং পরে সকাল পৌনে ১০টায় দিকে টাকা নিয়ে ফের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার চাচাকে জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল ৭টার দিকে রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ খবরে হাবিবুল্লাহ উদ্বিগ্ন হয়ে তৎক্ষণাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রায়হানের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিকাল ৩টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। রায়হানের লাশ দাফন করে তিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান চাচা হাবিবুল্লাহ। রোববার ভোরে রায়হানের মৃত্যুর পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ছিনতাইকালে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। রায়হানকে আটককারী বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আশিক এলাহীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়হানকে কখন কোথা থেকে আটক করা হয়েছিল তা মিডিয়াকে জানানো হয়েছে। তিনি কিছু বলতে পারবেন না। বন্দরবাজার ফাঁড়ি নগরের কতোয়ালি মডেল থানার অধীনে। এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা ছুটিতে আছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল মৈত্র জানান, ভোরে কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হন রায়হান। যিনি একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি। পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। কাষ্টঘরের কোন জায়গা থেকে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কারা উদ্ধার অভিযানে ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম)-এর সাথে কথা বলুন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তময় সরকার বলেন, পরিবারের অভিযোগটি আমরাও শুনেছি। পুরো বিষয়টি উপ কমিশনার (উত্তর)-এর নেতৃত্বে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসলে কোন জায়গা থেকে কারা রায়হানকে উদ্ধার করেছে তাও তদন্তে বের হয়ে আসবে। যদিও এর আগে রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ছিনতাই চেষ্টাকালে রায়হান গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তোলার পর বক্তব্য পাল্টে যায় পুলিশের। এদিকে ওসমানী হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রায়হানকে সেখানে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের মামাতো ভাই আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, গণপিটুনিতে মারা গেলে তার দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকত। কিন্তু তার হাতের নখগুলো দেখলে অনুমান করা যায় তা উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। পায়ের হাঁটুর নিচে রড দিয়ে পেটানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন আবদুর রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর