শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শৈলকুপায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত শহীদ টগরের ৪৯তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত  ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে আওয়ামী নবীন লীগের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন পরিবেশ বান্ধব কলম আবিষ্কার করলেন, যশোরে নাসিমা আক্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকীতে দোয়া ও সভা অনুষ্ঠিত আন্দুলবাড়ীয়ায় যথাযথ মর্যাদায় ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত মৌলভীবাজারে ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হরিনাকুন্ডুতে ভাই ভাই ক্লিনিকে অপারেশনের পর গৃহবধূর মৃত্যু মেহেরপুর জেলা পুলিশের জাতীয় শোক দিবস পালন

কোরবানির পশু জবেহ ও গোস্ত বন্টনের নিয়ম

Reporter Name / ৫৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ন

জোবায়ের ফরাজী: একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারাবিশ্বের মুসলমানেরা কোরবানি করে থাকে। অনেকগুলো কাজ রয়েছে যার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় কোরবানি। এগুলোর মধ্যে পশু জবেহ করা,গোস্ত বন্টন করা,পারিশ্রমিক দেওয়া,চামড়া দান করা হলো অন্যতম। এর উপরই নির্ভর করছে কোরবানি ঠিকভাবে হচ্ছে কি হচ্ছে না। যেগুলো সাধারণত আমরা অনেকেই জানিনা।

কোরবানিদাতা নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবেহ করবেন, যদি তিনি ভালোভাবে জবেহ করতে পারেন তবেই। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে জবেহ করেছেন। আর জবেহ করা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম । তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের কোরবানির পশু নিজে জবেহ করা। ইমাম বুখারি (রাহ.) বলেছেন, সাহাবি আবু মুসা আশআরী (রা.) নিজের মেয়েদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন নিজ হাতে নিজেদের কোরবানির পশু জবেহ করেন। (ফাতহুল বারী, ১০/১৯)। তবে কোরবানির পশু জবেহ করার দায়িত্ব অন্যকে অর্পণ করা জায়েয আছে। কেননা, সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা.) তেষট্টিটি কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ করে বাকিগুলো জবেহ করা দায়িত্ব আলী [রা.] কে অর্পণ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১২১৮)।
জবেহ করার সময় যেসব বিষয় লক্ষণীয়ঃ- ১. এমন ব্যবস্থা নিয়ে জবেহ করা, যাতে পশুর অধিক কষ্ট না হয় এবং সহজেই প্রাণ ত্যাগ করতে পারে। জবেহ যেন খুব তীক্ষœ ধারালো ছুরি দ্বারা সম্পন্ন করা হয়। মূলত পশুর বিনা কষ্টে খুবই শীঘ্রতার সঙ্গে প্রাণ বধ করাই উদ্দেশ্য।হাদিসে এসেছে- সাহাবী শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন: তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা জবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৯৫৫)
আর যেহেতু পশুর চোখের সামনেই ছুরি ধার দেওয়া বৈধ নয়। একইভাবে একটি পশুকে অন্য একটি পশুর সামনে জবেহ করা এবং ছেচরে জবেহ স্থানে টেনে নিয়ে যাওয়াও মাকরূহ। পশুর গর্দানের এক প্রান্তে পা রেখে জবেহ করা মুস্তাহাব। যাতে পশুকে অনায়াসে কাবু করা যায়। কিন্তু গর্দানের পিছন দিকে পা মুচড়ে ধরা বৈধ নয়। কারণ তাতে পশু অধিক কষ্ট পায়। যেমন ইতোপূর্বে আনাস (রা.) বর্ণিত বুখারির হাদিসে আলোচনা করা হয়েছে। ৩. জবেহকালে পশুকে কিবলামুখী করে শয়ন করাতে হবে। (আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ২/১০৪৩) তবে এ হাদিসটির সনদ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যমুখে শুইয়েও জবেহ করা সিদ্ধ হবে।
জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে। কারণ এটা বলা ওয়াজিব। আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেছেন: যার উপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর। [সূরা আনআম (৬):১১৮]। এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি তা হতে তোমরা আহার কারো না, এটা অবশ্যই পাপ। [সূরা আনআম (৬): ১২১]। সময়ে বিসমিল্লাহর সঙ্গে আল্লাহু আকবার যুক্ত করা মুস্তাহাব। অবশ্য এর সঙ্গে কবুল করার দোয়া ছাড়া অন্য কিছু অতিরিক্ত করা বিধেয় নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) দুটি শিংওয়ালা ভেড়া জবেহ করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বললেন। (সুনানে দারামী, হাদিস নং ১৯৮৮; হাদিসটি সহিহ)।
রক্ত প্রবাহিত ও শুদ্ধ জবেহ হওয়ার জন্য চারটি অঙ্গ কাটা জরুরি। শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং পার্শ্বস্থ দুটি মোটা শিরা। প্রাণ ত্যাগ করার পূর্বে পশুর অন্য কোন অঙ্গ কেটে কষ্ট দেওয়া হারাম। যেমন- ঘাড় মটকানো, পায়ের শিরা কাটা, চামড়া ছাড়ানো ইত্যাদি কাজ জান যাওয়ার আগে বৈধ নয়। চামড়া ছাড়াতে শুরু করার পর যদি পুনরায় লাফিয়ে ওঠে, তাহলে আরও কিছুক্ষণ প্রাণ ত্যাগ করার জন্য পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু পশুকে কষ্ট দেয়া আদৌ বৈধ নয়। পশু পালিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও ঘাড় মটকানো যাবে না। বরং তার বদলে কিছুক্ষণ ধরে রাখা অথবা চেপে রাখা যায়। জবেহ করার সময় পশুর মাথা যাতে বিচ্ছিন্ন না হয় তার খেয়াল করা উচিত। তা সত্ত্বেও যদি কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েই যায়, তাহলে তা হালাল হওয়ার ব্যাপাবে কোন সন্দেহ নেই।
কোরবানির গোস্ত বণ্টন সম্পর্কে শরীয়তের বিধানঃ- কোরবানীর পশুর গোস্ত তিন ভাগ করে এক ভাগ গরীব মানুষকে, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীকে দিবে। বাকি এক ভাগ নিজে খাবে। যদি একাধিক শরীক থাকে তাহলে গোস্ত ভাগ করবে ওজন করে। অনুমান বা আন্দাজ করে নয়। কারণ অনুমান করে ভাগ করলে বেশকম হতে পারে, যা গুণাহের কারণ। যে কসাই গোস্ত তৈরি করে দিবে তাকে আলাদাভাবে কাজের জন্য মজুরি দিতে হবে। মজুরি হিসেবে কোরবানীর গোস্ত দেয়া জায়েজ নেই। কোরবানীর পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবে। গোস্তের মতো অন্যকে উপহারও দিতে পারবে। উত্তম হচ্ছে পশুর চামড়া কোন মাদরাসায় উপহার দিয়ে দেয়া। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু হলো মাদরাসা। তাই মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা করা সব মুসলমানের দায়িত্ব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর