শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
মোরেলগঞ্জে ঘেরের ভেড়িতে করলা চাষে লাভবান কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি আমি যে তোর — আলমডাঙ্গায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন।যে কোন সময়ের চেয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল চুয়াডাঙ্গায় ‘জিনের বাদশা’ নিয়ে গেল দেড় লাখ টাকা সেই শাবনূরের সন্তানের দায়িত্ব নিলেন ইউএনও শাহাদাৎ হত্যা: তিনজনের যাবজ্জীবন চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২ চুয়াডাঙ্গা ভি. জে. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭২ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধু মিলনমেলা আসন্ন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় ও গণসংযোগ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আনসার-ভিডিপি’র জনসচেতনতামূলক কোভিড-১৯টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ র‌্যালী ও আলোচনা সভা

২৫  রমজান : আত্মার পবিত্রতায় পোশাকের প্রভাব

Reporter Name / ১৭২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

হযরত মাওলানা মুফতি বনি ইয়ামিন : ফাইল ফটো

ধর্ম ও জীবন, বনি ইয়ামিন, জাগো দেশ প্রতিবেদকঃ মেয়েদের বোরকা ও হিজাব পরার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতপার্থক্য থাকলেও তা ইসলামী শরিয়ত
অনুযায়ী পর্দার একটি অংশ এবং এটি ধর্মীয় লেবাস- পোশাক সংক্রান্ত নির্দেশাবলির অন্তর্ভুক্ত। লেবাস পোশাক সম্পর্কে ইসলামে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা
রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। শরীয়তসম্মত লেবাস গ্রহণে বাধ্যবাধকতা মূলত শরীয়তের পক্ষ হতেই আরোপিত। পোশাক সম্পর্কে কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছেথ হে আদমের সন্তানসন্ততি! আমি তোমাদের জন্য
পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দূষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যেরও উপকরণ। বসত তাকওয়ার যে পোশাক
সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নির্দেশনাবলির অন্যতম। যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা আরাফ : ২৬) শরীয়ত সতর ঢাকাকে রুচি ও স্বভাবের ওপর
ছেড়ে দেয়নি, বরং দ্বীনের অপরিহার্য বিধান বানিয়ে দিয়েছে। কারণ মানুষের স্বাভাবিক রুচি ও শালীনতাবোধকে সংরক্ষণ করার জন্যও সুনির্দিষ্ট নীতি ও নির্দেশনার প্রয়োজন। অন্যথায় বিভিন্নভাবে তা বিনষ্ট হতে পারে। অর্থের লালসা, খ্যাতির মোহ, প্রদর্শন-প্রিয়তা ও নির্বিচার অনুকরণ মানুষের শালীনতাবোধকেও পরিবর্তন করে দেয়। বর্তমান সমাজের মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত। পোশাক শুধু বাইরের বিষয় নয়, তা মনের গতিবিধিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো পোশাক মানুষকে
অহঙ্কারী করে। কোনো পোশাক বিনয় দান করে। কোনটা উশৃঙ্খল হওয়ার উসকানি দেয় আর কোনটা করে শান্ত সমাহিত। হৃদয় ও আত্মার পবিত্রতা এবং বাহ্যিক আচার-আচরণেও পোশাকের প্রভাব অনস্বীকার্য। এজন্য ইসলামী শরীয়তে লেবাস-পোশাকের কিছু নীতি রয়েছে, যা অনুসরণ করে মানুষ পোশাকের
কল্যাণ লাভ করতে পারে এবং পোশাকের অকল্যাণ থেকে রক্ষা পেতে পারে।
লেবাস অবশ্যই সতর-আবৃতকারী হতে হবে। কুরআন মজিদের উপরোক্ত আয়াতের যা তোমাদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করে বাক্যাংশে এই মূলনীতির
দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য সতর ঢাকা। হাসিদে এসেছে, এত সংক্ষিপ্ত পোশাক পরিধান করা যে, সতর বা সতরের কিছু অংশ খোলা থাকে বা এত পাতলা কাপড় ব্যবহার করা যে, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দৃষ্টিগোচর হয়, পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্যই তা হারাম ও নিষিদ্ধ। তেমনি এত আঁটসাঁট পোশাক, যার ওপর দিয়ে শরীরের আবরণীয় অঙ্গসমূহ ফুটে ওঠে তাও বর্জনীয়। পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম। ইসলামে রেশমের পোশাক পুরুষের জন্য নিষেধ, কিন্তু নারীর জন্য অনুমোদিত। স্বর্ণের ব্যবহার নারীর জন্য জায়েজ, কিন্তু পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে। এছাড়া যে কোনো রঙের কাপড় নারীরা পরিধান করতে পারে, কিন্তু পুরুষের জন্য কিছু কিছু রং পরিহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তোমরা রেশমের কাপড় পরিধান করা না। কেননা, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশম পরিধান করবে সে আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৮৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৬৯/১১)।
আমার পুরুষ উম্মতের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণ হারাম করা হয়েছে আর তা হালাল করা হয়েছে মহিলাদের জন্য। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৭২০) তোমরা
সাদা কাপড় পরিধান কর। কেননা তা তোমাদের উত্তম কাপড়ের অন্যতম আর তাতেই তোমাদের মৃতদের কাফন দাও। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৫৫) নারী-পুরুষ একে অন্যের সাদৃশ্য পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস
(রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীর বেশধারণকারী পুরুষের ওপর আর পুরুষের বেশধারণকারিনী নারীর ওপর লানত করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৮৮৫) পোশাক- পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে ইসরাফ বা অপচয়ও ইসলামে নিন্দনীয়। এ ছাড়া লেবাস-পোশাকের মাধ্যমে অহংকার ও লোক দেখানোর মানসিকতা পরিত্যাগ করার জন্য ইসলামে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত মাটিতে কাপড় টেনে টেনে চলে আল্লাহতাআলা কেয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না (রাগান্বিত থাকবেন)। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৯১; মুসলিম, হাদিস : ২০৮৫/৪৪) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, পুরুষের পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ টাখনুর নিচে যাবে তা (অর্থাৎ টাখনুর নিচের
সেই স্থান) জাহান্নামে জ্বলবে।মানুষকে দেখানোর জন্য বা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের
জন্য খুব জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা ব্যতিক্রমী পোশাক পরিধান করাও শরিয়তে নিষেধ। ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধির (উদ্দেশ্যে) পোশাক পরিধান
করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরিধান করাবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০২৩; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬০৩/৩৬০৭)।

লেখক:

হযরত মাওলানা মুফতি বনি ইয়ানিম সাহেব ,


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর