রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

করোনার চেয়ে বড় আতঙ্ক চুয়াডাঙ্গায় পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল

Reporter Name / ৫৬২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

এম এ আর নয়ন, স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। কোভিড আক্রান্তের যার কারণে কাজকর্ম তো পরের কথা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াই নিষেধ। বাইরে বের হতে না পারার কারণে অধিকাংশ পরিবারই মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই দিন পার করছেন ত্রাণের খাবার খেয়ে। তার ভেতরেই ঘরে এসে পৌঁছেছে পল্লী বিদ্যুৎ এর বিল। যে বিলে একমাত্র জরিমানা বাদে সকল কিছুই সংযোজন করা আছে। ৬৫ ইউনিটের একটি আবাসিক (এলটি-এ) গ্রাহকের ব্যবহারের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিল হয় ২৭২/- (দুইশত বাহাত্তর) টাকা মাত্র। সেখানে সার্ভিস চার্জ ধরা হয়েছে ৬০/- (ষাট) টাকা মাত্র। ভ্যাট ও মিটার ভাড়া বাবদ ২৭/- (সাতাশ) টাকা মাত্র। অর্থাৎ ২৭২/- (দুইশত বাহাত্তর) টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল সবমিলিয়ে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হচ্ছে ৩৫৯/-( তিনশত উনষাট) টাকা। লকডাউনের কারণে সকল প্রকার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আয়হীন হয়ে ঘরে বন্দি রয়েছেন অন্যান্য পেশার মানুষ। কিন্তু করোনা ভাইরাসের এই অসুবিধার কারণে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিলের কাগজ। যা গত বছরের একই সময়/ একই মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে গড় বিল প্রণয়ন করা হয়েছে। কোন অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তীতে তা সংশোধন / সমন্বয় করা হবে বলে বিলের কাগজে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, বিল যখন বাড়িতে পৌঁছিয়েই দেওয়া হচ্ছে তখন মিটার রিডিং করতে আর দোষ কিসের? বিলের কাগজ পৌঁছাতে গ্রাহকের বাড়িতে যেতে হচ্ছে আবার মিটার রিডিং করতেও গ্রাহকের বাড়িতে যেতে হয়। লকডাউন তো উপেক্ষাই করা হলো। তাহলে আর অনুমানের ভিত্তিতে বিল তৈরী করার কোন দরকার ছিলোনা। আমরাতো মরছিই আরেকটু কষ্ট করেই মরি।।তবে ব্যবসায়িক শ্রেণীর আওতায় পড়া গ্রাহকরা বলেন, দেড় মাসের অধিক সময় ধরে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এখন যদি গত বছরের একই মাসের হিসাবে আমাদের বিল দিতে হয় তাহলে সেটা কেমনে সম্ভব? আমরা তো দোকানই খুলিনি। আর বিদ্যুৎ ও ব্যবহার করিনি। বিল যদি একই পরিমাণ দিতে হয় তাহলে গত বছরের একই মাসে যে আয় করেছিলাম সেই পরিমাণ টাকা সরকার আমাদের হাতে বুঝিয়ে দিক। গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, একমাত্র জরিমানা ছাড়া, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট, মিটার ভাড়া সবই যখন দিতে হচ্ছে, জরিমানাটা বাদ না দিলেও হতো। তাহলে ষোলআনা পূর্ণ হয়ে যেতো। তবে অনেকেই আবার বলেছেন, বিদ্যুৎ হলো বর্তমান যুগের সকলপ্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মূল। যা ছাড়া।কোন কাজই ঠিকমতো করা যাবেনা। এজন্য বিদ্যুৎ খাতকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সময় মতো বিলগুলো পরিশোধ করা উচিত। কারণ লকডাউনের মধ্যে আমরা বাড়িতে থেকে সবসময় বিদ্যুৎ এর সুবিধা নিচ্ছি। তবে সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে আপাতত বিদ্যুৎ বিল একেবারে মওকুফের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর