সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীনগরে হাঁসাড়ায় স্কুল গেইটে ফুট ওভার ব্রীজের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন নওগাঁয় পরকীয়ার জেরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নারীর হাতের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন :যুবক আটক রাণীনগরে বাঁশ বোঝাই ভটভটিকে সহযোগীতা করতে গিয়ে প্রাণ গেল ময়েনের চুয়াডাঙ্গার কুশোডাঙ্গা গ্রামে অটো উল্টে ৬ বছরের শিশু নিহত কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন চার পথ নিরাপদের দাবিতে সুনামগঞ্জে সেভ দ্য রোড-এর সমাবেশ কর্তব্যের তরে দিয়ে গেলে যারা, আত্মবলিদান প্রতিক্ষণে স্মরণে রাখিব ধরি তোমাদের সম্মানঃ- ঝিনাইদহে মাদ্রাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারঃ চুয়াডাঙ্গার মা নার্সিংহোমে সিজারিয়ানে পর সদর হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু মুজিবনগরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীর দাফন

ধুলায় একাকার আট কিলোমিটার সড়ক

Reporter Name / ১০৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

জামাল হোসেন, জাগো দেশ প্রতিবেদকঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর শহরের প্রবেশ দ্বার ইসলামপুর চ্যাংখালী সড়ক থেকে দৌলৎগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম এ সড়কটি সংস্করণ কাজে ধীরগতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। অন্যদিকে রাস্তার ধুলার কারণে এলাকাবাসীর দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২-৩ মাস আগে শেষ হলেও পিচকরণের কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে পথচারী ও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এদিকে এ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভ্যান, পাওয়ার টিলার, ট্রাক, ট্রাক্টর, সিএনজি, মাইক্রোবাস
চলাচল করায় ধুলায় নাকাল হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। উপজেলা শহর থেকে সীমান্ত ইউপির গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের ধুলাবালির সঙ্গে পথচারীদের পাশাপাশি সড়কের পাশে বসবাসকারীদের যেন নিত্য বসবাস। উন্নয়ন কার্যক্রমের
নামে রাস্তায় আংশিক কাজ করার কারণে ধুলাবালির পরিমাণ অত্যাধিক
বেড়ে যাওয়ায় বিষিয়ে উঠেছে পরিবেশ। অসহনীয় ধুলাবালির মধ্যে উপজেলার গয়েশপুর, মেদিনীপুর, হরিহরনগর, বেনীপুর, নতুনপাড়া, গোয়ালপাড়া, সদর পাড়াসহ বেশির ভাগ সড়কে চলাচলকারী মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। এ ছাড়াও এ সড়ক দিয়ে ওই সব গ্রামের সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে। অন্যদিকে এ সড়কের দু’ধারে গড়ে ওঠা গ্রামবাসীর অবস্থাও নাকাল। সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি ধুলায় প্রতিদিন ধূসর হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলের সময় পথচারী কিংবা অন্য
ক্ষুদ্র পরিবহনে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতির
কারণে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ভাসছে ধুলাবালি। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় পথচারীরা শ্বাসকষ্ট, এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডা. আবু হেনা মোস্তফা জামাল শুভ বলেন, ক্ষতিকর উপাদান ও রোগজীবাণু মিশ্রিত ধুলাবালি মানবদেহে প্রবেশ করে এলার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ সৃষ্টি করে থাকে। মারাত্মক বায়ু দুষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তুষার বলেন, সড়কটির পিচকরণের কাজ শেষ না করায় চরম অসুবিধা হচ্ছে। বাড়ি থেকে সড়কে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গায়ের জামা-কাপড় ইটের ধুলাবালিতে ধূসর হয়ে যায়। নাক-মুখ বন্ধ হয়ে যায়। চোখে ধুলা পড়লে তো
আর ভোগান্তির শেষ নেই। ইসলামপুরের আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, সড়কটির খোঁড়াখুঁড়ির পর রাস্তায় ইটের খোঁয়া বিছিয়ে তা রোলার করার কাজটি গত ২-৩ মাস আগে শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে পিচকরণের কাজ থমকে আছে। রাস্তায় পিচকরণ না করায় খোয়ার সৃষ্ট ধুলায় জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এমনিতেই করোনাভাইরাস আতঙ্ক রয়েছে, তারপর আবার রাস্তায় ধুলার কারণে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় চলাচল দুষ্কর হয়ে
পড়েছে। একটু হাঁটাচলা করলে কিংবা গাড়িতে উঠলেই জামা-কাপড় একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।

সাংবাদিক মামুন মোল্যা বলেন, রাস্তা নির্মাণে সব মহলকে ম্যানেজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করেছেন। আবার এখন রাস্তায় পিচকরণের কাজও অযথাই দেরি করে এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাস্তার ধুলাবালি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন ময়েন বলেন, সড়কটি নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। ইটের খোয়ার ধুলার কারণে চলাচল করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। ধুলাবালি নাকে মুখে প্রবেশ করে কাশিতে বমি হয়ে যায়। এ সড়ক দিয়ে অনেক বেশি যানবাহন
চলাচলের কারণে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়েছে। তবে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত পিচকরণের কাজটি শেষ করা উচিৎ।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজী জাকাউল্যাহ বলেন, চুক্তি মোতাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করতে না দেয়ায় সামান্য বিলম্ব হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই পিচকরণের কাজ শেষ করা হবে। তবে যতদিন না পিচকরণ করতে পারছি ততদিন মাঝে মধ্যে সড়কে পানি দিয়ে ধুলাবালি কমানোর চেষ্টা করা হবে। উপজেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন
খান বলেন, গত কয়েক দিন আগে যোগদান করেছি। সড়কটি সম্পর্কে কিছু জানা নেই। তবে সড়কটির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে ইউএনও সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়কের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর